হযরত শাহ্ জালাল (রহঃ) মাজারে ৭শত বছরের  ইতিহাসে এই প্রথম ওরস হচ্ছে না দরগাহ শরীফে।

সাকলাইন যেবায়েরঃ
৭ শত বছরের ইতিহাসে এভারেই প্রথম অনুষ্ঠিত হচ্ছে না  বাংলাদেশের ওলীকূলের শিরোমণী সুলতানে বাংলা হযরত মাওলানা শাহ্ জালাল মুজাররদ ইয়েমেনী (রহঃ)  সিলেটের দরগায় ওরস শরীফে। আগামী  ১১ ও ১২ জুলাই হযরতের ৭০১ তম ওরস মোবারক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও গত ৭০০ বছরের ইতিহাসে ওরস শরীফ না হওয়ার ঘটনা ইতিহাসে এবারেই প্রথম ঘটল।

সিলেট থেকে মুঠোফোনে এই প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন দরগাহ্ শরীফের সেক্রেটারী শামুন মাহমুদ খান তিনি বলেন হযরত শাহ্ জালাল মুজাররদ ইয়েমেনী (রহঃ) ৭০১ তম ওরস শরীফ মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারনে এবার দরগাহ্ শরীফে অনুষ্ঠিত হচ্ছেনা হযরত শাহ্ জালাল (রহঃ) ওরস শরীফ  । তিনি বলেন দরগাহ্ শরীফে এবার ওরসের কোন প্রকার কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হবেনা ভক্ত ও আশেকানরা তাদের নিজ নিজ স্থানে  পালন করতে পারবেন। 

সিলেটের দরগাহ্ শরীফের সরেকওম মোতওয়ালী ফতেহ উল্লাহ আল-আমান এক বিজ্ঞতির মাধ্যমে  জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমনের কারনে বিভিন্ন সিলেটেসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা লকডাউনসহ সামাজিক দুরত্বের  কথা বলা হয়েছে  কিন্তু তারপরও সামাজিক সংক্রমন দিন দিন বেড়েই  চলেছে । এ পরিস্থিতীতে জনগনের স্বাস্থের কথা চিন্তা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইড রাইন অনুসারে প্রাণঘাতী করোনার জন্য এবছর কোন প্রকার ৭০১ তম ওরসের কার্য়ক্রম অনুষ্ঠিত হবে না বলে জানিয়েছেন দরগাহ শরীফের সরেকওম মোতওয়ালী ফতে উল্লাহ আল আমান। তিনি আরও বলে দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা অগনিত ভক্ত যেন সিলেটের মাজার শরীফে এসে না ভীড় করেন তাও তিনি নিরুস্যাহিত করেছেন যার যার অবস্থানে জিকির-আজকার,মিলাদ-মাহফির এর মাধ্যমে পালন করতে বলেছেন। র‍্যাব,আর্ম পুলিশ অণ্যান্য গোয়েন্দা সংস্কার লোকজন ও লোকজন নিরাপওায় থাকবেন বলে জানিয়েছেন। আশেকানরা যেন দরগায় এসে না ভির করেন তিনি তাও স্পষ্ট করে বলেছেন তাছাড়া মোওয়ালী সাহেব র‍্যাব,পুলিশ,আমর্ড পুলিশ থাকবেন বলে জানিয়েছেন।               

হযরত শাহ্ জালাল (রহঃ) ওরসের বললে অনেকে ধারনা করেন যে ঢোল-তবলা,জারী গান,গিলাফ শরীফ নজরানার মধ্যেই সিমাবদ্ধ হযরত শাহ্ জালালের ওরস শরীফ। কিন্তু না  এ প্রতিবেদকের  ২০ বছরের অভিজ্ঞতায় প্রতি বছর ওরসে অংশগ্রহন করে যা দেখেছি প্রতিবছরই সম্পূর্ণ শরিয়ত সম্মত ভাবে হযরত শাহ্ জালাল (রহ)ওরসের যাবতীয় অনুষ্ঠানাদী সম্পাদন করেন দরগাহ্ কর্তর্ৃপক্ষ। যেমন ১৯ শে জ্বিলকদের  রাত ১২ টা থেকে মাজার শরীফের উপরের ৭ চান্নি নতুন করে লাগানো ও মাজার শরীফ গোসলের মাধ্যমে শুরু হয় হযরত শাহ্ জালাল (রহঃ) ওরসের কর্মসূচী তারপর সকাল ৭ টা থেকে ৮ টার  মধ্যে  শুরু হয় হযরত শাহ্ জালাল (রহঃ) দরগাহর এক গম্বুজের নিচে কোরআনুল করীম থেকে আয়াত ও সূরা পাঠ করে আল্লাহর জিকির,দরুদ শরীফ পাঠ কোন প্রকার বাদ্য-যন্ত্রহীন ভাবে ক্বাসিদা ও মিলাদ-মাহফিল যা হযরত শাহ্ সুফি শায়খুল কোররাহ্ আবদুস্ সোবহান আলক্বাদেরী (রহঃ) উসুল অনুসারে অনুষ্ঠিত হয় যা সকাল ৯ টার মধ্যে সমাপ্ত হয়। তারপর রাষ্ট্রীয় ভাবে দরগাহ্ কর্তৃপক্ষ প্রথম গিলাফ মাজার শরীফে চড়ানোর পর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ভক্ত ও আশেকানরা তাদের মত করে রাত পর্যন্ত গিলাফ শরীফ নজরানা পেশ করে। হযরত শাহ্ জালাল (রহঃ) গজার মাছের পুকুর সংলগ্ন জালালী কবুতরকে যেখানে খাদ্য দেয়া হয় সেখানের দোতলা রুমে রাত ১০ টায়  ইসলামী শরীয়তের সম্পূর্ণ বিধান অনুযায়ী শুরু হয় কোরআন তেলাওয়াত,আল্লাহর জিকির-আজকার,মিলাদ-মাহফিল রাত ৩ টা ১৫ মিনিটে আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে ওরস শরীফের কর্মকান্ডের সমাপ্তি হয়।আল্লাহ তায়ালা তাঁর এ মহান পূণ্যবান আওলিয়ার ওসিলায় আমাদের দেশ থেকে করোনা নামক ভয়াবহ মহামারী থেকে রক্ষা করুন। শাহ্ জালালের এই বাংলাদেশ , শাহ্ পরানের এই বাংলাদেশ , শাহ্ আলী বাগদাদীর এই বাংলাদেশ শাহ্ সোবহানের এই বাংলাদেশ তাদের ওয়াস্তে তাদের ওয়াস্তে রহম কর আল্লাহ রহম কর আল্লাহ।  

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!