হটস্পট’ কুমিল্লায় করোনায় মৃত্যু দুইশ’ ছুঁইছুঁই।

ফারুক আল শারাহ: 

বাংলাদেশে চলতি বছরের ৮ মার্চ করোনার প্রকোপ শুরু হলেও একমাস পর ৯ এপ্রিল কুমিল্লায় জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় একপর্যায়ে করোনার ‘হটস্পট’ হয়ে ওঠে কুমিল্লা। এখানে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দুইশ’ ছুঁইছঁুই। সর্বশেষ ২ জন সহ এখানে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯৭ জন। জেলায় করোনায় মৃত্যুর পরিসংখ্যান থাকলেও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর কোন পরিসংখ্যান নেই। তবে, ধারণা করা যাচ্ছে জেলায় ৫ শতাধিক মানুষ উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এদিকে, আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ জন বেড়ে ৭,৩১৩ জনে দঁাড়িয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫,৯৮৫ জন।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লায় ১৭৩টি নমুনার রিপোর্ট আসে। আগত রিপোর্টে ১৭ জনের পজিটিভ ও ১৫৬টি নেগেটিভ। আক্রান্তদের মধ্যে সিটি করপোরেশন ১ জন, চান্দিনা ৪ জন, দেবিদ্বার ৩ জন, বুড়িচং ৩ জন, লাকসাম ২ জন, বরুড়া ২ জন, মুরাদনগর ১ জন ও হোমনা উপজেলায় ১ জন। 

জেলায় একদিনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের মধ্যে ১ জন পুরুষ ও ১ জন মহিলা। মৃত ব্যক্তিদের ২ জনই সিটি করপোরেশনের। তাদের মধ্যে ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধ ও ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা রয়েছেন। 

জেলায় একদিনে ১৯ জন সুস্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে সিটি করপোরেশন ১১ জন, দেবিদ্বার ৪ জন ও মনোহরগঞ্জ উপজেলায় ৪ জন। 

সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা জেলায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৬৩টি। এ পর্যন্ত জেলায় সর্বমোট নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৩৫,৮২৯টি। তার মধ্যে রিপোর্ট এসেছে ৩৫,০৯৮টি। এখনো রিপোর্ট প্রক্রিয়াধীন ৭৩১টি। প্রাপ্ত রিপোর্টে পজিটিভ ৭,৩১৩ জন এবং নেগেটিভ ২৭,৭৮৫টি। তাদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ১৯৭ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫,৯৮৫ জন। এখনো হোম আইসলোশান ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১,১৩১ জন।   

এদিকে, জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমে এলেও প্রায় প্রতিদিনই আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ-উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই এখানে মৃত্যুবরণ করছেন। উপসর্গ নিয়েও অনেকে মারা যাচ্ছেন। যার কোন পরিসংখ্যা নেই। তবে, ধারণা করা যাচ্ছে শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৫ শতাধিক করোনা উপসর্গে প্রাণ হারিয়েছেন। 

কুমিল্লা জেলা করোনা প্রতিরোধ সমন্বয়ক ডা. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী জানান, জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শতকরা ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ করোনা আক্রান্ত রোগী পূর্ব থেকেই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কিডনি, শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, হৃদরোগ সহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। 

তিনি বলেন, যারা এসব জটিল রোগে ভূগছেন তাদেরকে চলাফেরায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। করোনামুক্ত থাকার জন্য যা করনীয় তার সবটাই মেনে চলতে হবে। আর তারা আক্রান্ত না হলে মৃত্যুর হারও অনেক কমে আসবে। 

ডা. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী বলেন, চিকিৎসক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের আগে ফ্রন্টলাইন ফাইটার বলা হতো। আমি মনে করে, এখন প্রতিটি নাগরিকই ফ্রন্টলাইন ফাইটার। নিজের, পরিবারের ও অন্যের সুরক্ষা নিশ্চিতে সকলকে ভূমিকা রাখতে হবে। অবশ্যই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। আর তা মেনে চলতে পারলেই করোনা সংক্রমণ রোধের পাশাপাশি মৃত্যুর হারও দ্রুত কমে আসবে।  

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!