সাংবাদিকতায় নতুন ধারার কিংবদন্তি গেদুচাচা ও খোন্দকার মোজাম্মেল হক।

এম এস দোহাঃ

আশি দর্শকের শেষ প্রান্ত। এরশাদের সামরিক শাসনামলের শ্বাসরুদ্ধকর প্রেক্ষাপট। মিডিয়াগুলোকে পা ফেলতো হতো কৌশলে। বিরোধী দলের আন্দোলনে রাজপথ উত্তাপ্ত। বিবিসির আতউস সামাদ, ভয়েস অব আমেরিকার গিয়াস কামাল চৌধুরী, যায় যায় দিনের শফিক রেহমান, বিচিন্তার মিনার মাহমুদ, মতিউর রহমান চৌধুরী প্রমূখরা এরই মধ্যে হয়রানির শিকার। অথচ ঠিক এরকম উত্তপ্ত পরিস্থিতি ১৯৮৮ সালে ১ জুন হঠাৎ অভিনব নতুন ধারায় সাংবাদিকতার সূচনা।

মাননীয় প্রেসিডেন্ট  এরশাদ চাচা। আমার ছালাম গ্রহণ করবেন। আশা করি ছবি-ছালামতে আছেন। আমিও মোটামোটি। চাচাগো, আমাকে আপনার না চেনারই কথা। ৬৮ হাজার গ্রামের কোটি মানুষের মধ্যে আমি একজন অধম নাখান্দা নালায়েক। থাকি অজোপাড়া গাঁয়ে। সকলে আমারে গেদুচাচা বলিয়া ডাকে। পুতে ডাকে চাচা। আবার বাপেও আমাকে কহে চাচা। মানে আমি সকলের চাচা। আপনিও আমাকে চাচা বলিতে পারেন।

এ নিয়ে হৈ চৈ পড়ে  সারা দেশে। সামরিক শাসক এরশাদের সাথে মশকরা। তাও আবার পত্রিকায় প্রকাশিত খোলা চিঠিতে হাস্যরসের মাধমে। সহজ সরল গ্রাম্য ভাষায় মানুষের সমস্যা উপস্থাপন। রাষ্ট্র ও সরকারের গৃহীত বিভিন্ন নীতির দূর্বলতাগুলো চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানো। গেদুচাচার খোলা চিঠি তার দুষ্টান্ত। ভিন্ন ধারার এই সাংবাদিকতা পথিকৃত খ.ম.হ। অনেকের মতো আমিও ছিলাম এই কলামের নিয়মিত পাঠক। যা ছিলো অনেকটা নেশায় আসক্তির মতো। রাষ্ট্রপতি এরশাদ এই চিঠিটি নিয়মিত পড়তেন। অসংখ্য সমস্যার সমাধান ও দিক নিদের্শনা দিতেন গেদুচাচার চিঠির সুত্রধরে।

তখন সবেমাত্র আমার ঢাকায় আগম। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কোর্সের  সহ-সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালনরত। সেইসাথে দৈনিক দেশবাংলায়, ‘জীবন প্রবাহ’ শীর্ষক মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদন লিখতাম। গেদুচাচাকে দেখা ও পরিচয় হওয়ার প্রচন্ড আগ্রহ। দেখা করলাম। আলাপচারিতায় জানতে চাইলাম এরশাদের মতো সামরিক শাসকের সাথে ঠাট্টাচ্ছলে লেখালেখির দুঃসাহস ও রহস্য সম্পর্কে। জবাবে তিনি বলেন, কৌশলী হলে স্ত্রী চেয়ে শ্বাশুড়ীর সাথে বেশী ঠাট্টা মশকরা করা যায়। মানবাধিকার বিষয়ক কর্মশালায় গেদুচাচাকে প্রশিক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানালাম। সম্পর্ক আরো গাঢ় থেকে গাঢ় হয়। মাঝে মাঝে দু একটি লেখা দিতাম। খুব গুরুত্ব সহকারে ছাপাতেন। মূলত এভাবে জড়িয়ে পড়ি খোন্দকার মোজাম্মেল হক, সুগন্ধা ও আজকের সূর্যোদয়ের সাথে।

৯০’র গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এরশাদের পতনের পর দায়িত্ব নিলেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ। গেদুচাচা তাকে ‘কডু চাচা’ সম্বোধনের মাধ্যমে হাস্যরসের জন্ম দেন। ‘কডুু মিয়া’ ডাক নামটি সম্পর্কে বিচারপতি শাহাবুদ্দিনের পরিবারের সদস্যদেরাও ছিল অজ্ঞাত।

সুগন্ধা, সূযোর্র্দয়, আজকের সুযোর্দয় গ্রুপের কাযার্লয় কৎকালীন সময়ে সর্বদা থাকতো জমজমাট। থাকতো সিনিয়র জুনিয়র সাংবাদিকদের মিলন মেলা। আবদুল গাফফার চৌধুরী, এবিএম মুসা, মতিউর রহমান চৌধুরী, হাবিবুর রহমান মিলন, হেদায়েত হোসাইন মোরশেদ, নাজিম উদ্দিন মোস্তান, শাহজাহান সরদার, আবু তাহের, নঈম নিজাম, স্বপন দাশ গুপ্ত প্রমূখরা কলাম লিখতেন। ভাবী ফারজানা হক লাকী আমাদের বিভিন্নভাবে উৎসাহ যোগাতেন। নিউজ ডেস্কে ছিলাম রানা আশরাফ, মাহফুজুর রহমান, ইকবাল হোসেন সানু, আজমল হক হেলাল, শামীম মোহাম্মদ, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, হালিম সিদ্দিকী সহ আমরা। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক হিসেবে শাবান মাহমুদ, চট্টগ্রাম ব্যুরোতে জুবায়ের সিদ্দিকী, সোহেল হায়দার চৌধুরী, সিলেট লতিফ নতুন, খুলনায় এস এম আবু সাঈদ, রাজশাহীতে সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, কুমিল্লায় ফিরোজ মিয়া নতুন সহ দেশে বিদেশে আরো অসংখ্যা সংবাদ কর্মী। জেনারেল ডেস্কে খোন্দকার বেলায়েত হোসেন, অহিদুজ্জামান হিরু, ইউসুফ আলী, খায়রুল আলম ও জহিরুল ইসলাম প্রমূখ।

রহমান মাহফুজ বাসাস যোগদানের পর প্রধান প্রতিবেদকের দায়িত্ব অর্পন করা হয় আমাকে। পাশাপাশি পাক্ষিক আপনজন, মাসিক সোনারতরী, বানিজ্যবাতার্র গুরু দায়িত্ব পালন করতে হয় আমাকে। অসংখ্য ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, রাজনীতিবীদদের ছবি ও সাক্ষাৎকার ছাপিয়েছি। কখনো প্রশ্ন তোলেননি। জানতেন হয়তো ফকিরাপুলের ডাব অথবা বাদশা হোটেলের ডাল গোস্তের বেশী আমার চাহিদা নেই।

তৎকালীন সময়ে অনেক দৈনিকের চেয়ে এই সাপ্তাহিকের গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা কম ছিলোনা। সার্বিকভাবে পত্রিকায় ব্যবস্থাপনায় জৌলুসে কিছুটা ঘাটতি ছিলো। তবে নীতি, আদর্শ সততা, নৈতিকতা ও পাঠকপ্রিয়তা ছিলো পরিপূর্ণ। অনেকে দূর থেকে ভাবতো এরশাদের কাছ থেকে বাড়ী গাড়ী টাকা দু’হাতে হাতিয়েছেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে ঠনঠন। শত কষ্ঠ ও আর্থিক অনটনের মাঝেও পত্রিকার বিজ্ঞাপনের জন্য কোন শিল্পগোষ্ঠীর কাছে তাকে দিয়ে অনুরোধ বা ফোণ করানো যেত না। বলতেন অনুরোধ, তেলমারা, আমাকে দিয়ে হবেনা। মৃত্যুর কিছু দিন পূর্বে ছোট মেয়ে প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে ভর্তি করাতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েন। সরকারের অনেক মন্ত্রী তার ঘনিষ্ট ও রাজনৈতিক কর্মী। অথচ তাদেরকেও বিষয়টি জানাননি। গ্রামের বাড়ীতে পৈত্রিক জায়গা বিক্রি করে নিরবেই সমস্যা সমাধান করেন। অর্থ উপার্জনে মোটেও বৈসয়িক ও কৌশলী ছিলেননা তিনি। বুঝতে পারেননি ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও ডিজিটালের ধাক্কায় প্রিন্ট মিড়িয়ার কদর এভাবে কমে যাবে। টাকার চেয়ে আড্ডা আর জ্ঞান চচার্য় বেশী সময় ব্যয় করতেন। কথা বলা শুরু করলে আর থামানোর সুযোগ নেই। রাজনীতি, দর্শন, ধর্ম, ইসলাম সুফিবাদ, শিল্প-সংস্কৃতি সব কিছুতেই দখল ছিল তার। শোনার চেয়ে বলতে বেশী পারদশর্ী ছিলেন। তার জ্ঞান ও পান্ডিতের কাছে নীরব দর্শকের মত শ্রবণের বিকল্প ছিলনা।

পবিত্রহজ্ব পালনে সৌদি  আরবে অবস্থানকালে গেদুচাচার চিঠি লেখার জন্য আমার প্রতি আস্থা রাখেন। মনেহয় ৪ সপ্তাহ আমি লিখেছিলাম। দেশে ফিরে বললেন, খুব ভালো হয়েছে। পত্রিকায় বর্ষপূতি ও ঈদ সংখ্যার লেখক খ.ম.হ অথ্যার্ৎ গেদুচাচার সাক্ষ্যাৎকার নিতে হতো আমাকে। পাঠক ও জনগনের মনে কথা, দেশের চলমান প্রেক্ষাপট কৌশলে বের করতাম গেদুচাচার মুখ থেকে। কল্পনাধর্মী এ সাক্ষাৎকারও যতেষ্ট পাঠক প্রিয়তা পায়। সেই সাথে আমাদেরকেও জড়িয়ে পেলেন ভালবাসায় ও মায়ার বন্ধনে। তখনকার সময়ে অনেক দৈনিক পত্রিকায় লোভনীয় বেতন ও অফার ফিরিয়ে দিয়েছি মোজাম্মেল ভাইয়ের ভালবাসার মায়াজালে। কোনদিন মনে হয়নি  একটা অফিসে কর্মচারী হিসাবে কাজ করছি। নেই কোন শাসন। বাঁধা নেই। দীর্ঘদিনের কর্মজীবনে কারো সাথে রাঘারাঘি হয়নি তার। বিগত চার দশকে সাংবাদিক তৈরীর বাতিঘর খোন্দকার মোজাম্মেল হক একজন শিক্ষক হিসাবে অনুকরণীয়। তার অনেক শীর্ষ  এখন বিভিন্ন সেক্টরে শীর্ষ পদে অধিষ্টিত।

পত্রিকা পরিচালনা ও  লেখালেখির ক্ষেত্রে খোন্দকার মোজাম্মেল দর্শন ছিলো একশভাগ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ। ৯০ পরবর্তী সময়ে আওয়ামীলীগের কর্মী ও সমর্থকের কাছে আজকের সূযোর্দয় ছিলো অনুপ্রেরণা ও গাইডলাইনের ট্যাবলেট। আজকের সুযোর্দয় একমাত্র সাপ্তাহিক যা দীর্ঘ ৩০ বছর ননস্টপভাবে প্রকাশিত। পত্রিকাটির চরিত্র, নীতি, আদর্শও অটুট। করোনাকালীন সময়ে পত্রিকায় প্রকাশনা বন্ধ। সাথে পত্রিকার প্রধান সম্পাদক খোন্দকার মোজাম্মেল জীবন খাতায় ছন্দপতন। ব্যাংকার ছোট ছেলে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে তাকে সাহস , উৎসাহ ও সেবাযত্ন করেন তিনি। এক পর্যায়ে আক্রান্ত নিজেও। সাহসিকতার সাথে বাসায় চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।

উল্লেখ্য, খোন্দকার মোজাম্মেল হকের জম্ম ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলাধীন গতিয়া পূর্ব সোনাপুর গ্রামে ১৯৫০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী। তাঁর পিতা এটিএম খোন্দকার ওবায়দুল হক ছিলেন শিক্ষক। মাতা সৈয়দা আজিজুন নেছা খানম।

ছাত্র জীবন থেকেই তিনি ছিলেন প্রতিবাদী, বিদ্রোহী ও স্বাধীনচেতা। ১৯৬৪ সালের ১১ ই মার্চ ছাত্র গনহত্যার প্রতিবাদে সারা দেশে ধর্মঘট ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার কর্মসূচি পালন পাকিস্তানের উত্তোলিত জাতীয় পতাকা ছিড়ে ফেলার অভিযোগে হুলিয়া প্রাপ্ত হন। ১৯৬৬ সালের ৭ ই জুন তিনি আটক হলেও কৌশলে পালিয়ে যান। ১৯৬৬ সালে তিনি ফেনী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক, ১৯৬৭ সালে ফেনী মহকুমা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি ও নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৬৮ সালে তিনি নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

ঐতিহাসিক ১১ দফা আন্দোলনের সময় খোন্দকার মোজাম্মেল হক এবং শহীদ সৈয়দ মাওলানা ওয়ায়েজ উদ্দিন নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক নির্বাচিত হন। সেই সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরওয়ানা জারি হয়। ১৯৬৯ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালে তিনি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক জেলা ফেনী স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৭১ সালের ৭ ই মার্চ রেসকোস ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জনসভায় খোন্দকার মোজাম্মেল হক স্বশরিরে উপস্থিত ছিলেন। সেই ঐতিহাসিক ৭ ই মাচের ভাষন শুনার পর দিন ৮ ই মার্চ তিনি ফেনীতে আসেন। এসেই ৮ ই মার্চ নিজ হাতে জাতীয় পতাকা তৈরি করেন। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের নোয়খালী জেলার (গ্রেটার জেলা) সাধারণ সম্পাদক ও স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ফেনী মহকুমার আহবায়ক হিসেবে ৯ মার্চ ১৯৭১ ফেনীর ট্রাংক রোড়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের বিশাল জনসভায় লাল সবুজের পতাকা উত্তোলন করেন তিনি।

ফের্নীতে একটি পাকিস্তান আর্মি ক্যাম্প ২৭ শে মার্চ ঘেরাও করেন খোন্দকার মোজাম্মেল সহ মুক্তিকামী জনতা। মুক্তিকামী জনতার ওপর গুলি ছুড়ে পাকিস্তান হানাদার। পাল্টা আক্রামনে পাকহানাদারকে খতম করা হয়। ১৯৭১ সালে ৬ ডিসেম্বর ফেনী মুক্ত হলে বিজয় মিছিলের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী ছিলেন। মিছিল শেষে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি।

ফেনী মুক্ত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া থানার প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক পূনর্বিন্যাস কমিটির আহবায়ক ও নোয়াখালী ১ নির্বাচনি এলাকার বিশেষ রাজনৈতিক সমন্নয়ক এর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। লেখা লেখি ছিল তাঁর সারাজীবনের অন্যতম অধ্যায়। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই সাংবাদিকতার সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি সাপ্তাহিক সুগন্ধা, আজকের সূর্যোদয়, দৈনিক আজকের ঢাকা, প্রধান সম্পাদক ছিলেন। তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবের নির্বাহী সদস্য, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নে ডেইলি নিউজ ইউনিয়নের চীফ ছিলেন। বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদের সদস্য, মানবাধিকার সাংবাদিক গ্রুপের মহাসচিব ছিলেন। শিক্ষা জীবনে খোন্দকার মোজাম্মেল হক স্নাতক ডিগ্রি ছাড়াও আইন ও সাংবাদিকতা বিষয়ের ডিগ্রি লাভ করেন।

তিনি রেডক্রিসেন্ট, বাংলাদেশ লায়ন ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ব্লাড ব্যাংক ঢাকা, ফেনী তিনি গতিয়া আজিজুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তার লেখা কাব্যগ্রন্থ নগ্ননারী বিসার্প বোমারু বিমান এবং ‘গেদুচার খোলা চিঠি’ কলাম সংকলন। মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস “তোমার সংগে যাবো”, “আরেক একাত্তর ” এবং কাব্যগ্রন্থ “রক্তাক্ত স্মৃতি ১৯৭১।

২০২০ সালের ২৮ জুন ঢাকার সেগুনবাগিচা নিজ বাসায় ডায়াবেটিস জনিত কারণে শারিরীক অসুস্থতা দেখা দেয়। সন্ধ্যায় তার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে ঢাকার উত্তরবাড্ডা এএমজেট হাসপাতালে ভর্তি হন। ২৯ জুন বিকাল ৪ টায় চির বিদায় নেন তিনি। মৃত্যুকালে স্ত্রী, তিন পুত্র, দুই মেয়ে, দুই ভাই, পাঁচ বোন সহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে যান

বিশিষ্ট সাংবাদিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র লীগের কেন্দ্রিয় নেতা খোন্দকার মোজাম্মেল হকের মৃত্যুতে রাষ্ট্র্রপতি এডভোকেট আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেতু ও সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ, তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপস, সুপ্রিম কোর্ট বারের আমিন উদ্দিন মানিক, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়র আজম নাসির উদ্দিন, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল আলম চৌধুরী নওফেল, আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, ফেনী ২ আসনের এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি, ফেনী ২ আসনের সাবেক এমপি জয়নাল আবেদীন হাজারী, ফেনী ১ আসনের এমপি শিরীন আখতার এমপি, ফেনী ৩ আসনের এমপি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ফেনী প্রেসক্লাব, ছাগলনাইয়া প্রেসক্লাব গভীর শোক প্রকাশ করে।

৩০জুন সকাল ৯ টায় ঢাকা জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রথম নামাজে জানাজা ও ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা পূর্ব সোনাপুর নিজ গ্রামের বাড়ির সামনে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে গার্ড অব অনার প্রদান পূর্বক রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানের দাফন করা হয়। সেই সাথে পরিসমাপ্তি ঘটে সাংবাদিকতা জগতের এই কিংবদন্তির।

লেখক : উপদেষ্টা সম্পাদক, দৈনিক নতুন সময়।

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!