শ্রীকাইল গ্যাস ক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হচ্ছে আরো ২ কোটি ঘনফুট গ্যাস।

শামীম আহম্মেদঃ

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল-২ (মকলিশপুর) গ্যাসক্ষেত্রের নতুন কূপ থেকে দৈনিক আরো প্রায় ২০ মিলিয়ন (২ কোটি ঘনফুট) গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব বলে জানা গেছে। গ্যাস ক্ষেত্রের প্রকৌশলী মোঃ শাহজাহান গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এ খবর নিশ্চিত করেন। 

তিনি আরো বলেন, এ গ্যাস ক্ষেত্রের ৪ নম্বর কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৭-৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রীডে সরবরাহ করা হতো। বাপেক্স তাদের নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৫৬ দিন পর উক্ত কূপের নতুন স্তর থেকে শুক্রবার দুপুর থেকে গ্যাসের চাপ পরীক্ষা (ওয়াকওভার) শুরু করেন। এতে গ্যাস উত্তোলনের ফলে আগুনের শিখা ও প্রচন্ড শব্দে আশ-পাশের এলাকা থেকে গ্যাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পরীক্ষা শুরুর ৭২ ঘন্টার মধ্যে ‘ওয়াকওভার’ কাজ শেষ হলে এই সপ্তাহের যে কোন দিন থেকে জাতীয় গ্রীডে ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাবে।

শ্রীকাইল-২ গ্যাসক্ষেত্রটি ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসে উদ্বোধনের পর জুন মাস থেকে প্রথম গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩টি কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। এই ৪নং কূপটি সম্পূর্ণ বাংলাদেশি প্রযুক্তিতে বাপেক্স খনন করে গ্যাস উত্তোলন ও জাতীয় গ্রীডে সরবরাহ করেন।

সূত্র জানায়, শ্রীকাইল-২ এর ৪ নম্বর কূপটির উপরের স্তর থেকে আগেই ৭/৮ মিলিয়ন ঘনফুট করে গ্যাস দৈনিক উত্তোলন করা সম্ভব হতো। কিন্তু এখন নতুন করে আরও গভীরে নতুন স্তর থেকে একই কূপ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে।

গ্যাস ক্ষেত্রের প্রকৌশলী মোঃ শাহজাহান বলেন, এই কূপের নিচের স্তরে কি পরিমাণ গ্যাস থাকতে পারে তা নিশ্চিত হতে ৫৫ দিন ধরে কাজ করেছে বাপেক্স। শুক্রবার সন্ধ্যায় নতুন গ্যাস স্তরে ৩০-৪০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ থাকার সম্ভাবনা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ এখনো বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ এলএনজি আমদানি করে। নতুন কূপের এই গ্যাস এলএনজি খাতে ব্যবহার করা গেলে দেশের বিপুল রাজস্ব আয় সমৃদ্ধ হবে।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে বাপেক্সের তত্ত্বাবধানে শ্রীকাইল অনুসন্ধান গ্যাস কূপ খনন প্রকল্প (সোনাকান্দা, মোহাম্মদপুর, ঘোড়াশাল) স্থানে ১নং কূপ খনন করা হলেও অজানা কারণে এই কূপ থেকে আর গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ১ নাম্বার কূপের গ্যাস ক্ষেত্রটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী বাঙ্গরা পূর্ব ইউনিয়নের মকলিশপুরে ২০১৩ সালে শ্রীকাইল-২ গ্যাস ক্ষেত্রের  ৩টি কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন করে জাতীয় গ্রীডে যুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালের শুরুর দিকে পাশ্ববতর্ী নবীনগর উপজেলার (হাজীপুর, লাউর ফতেহপুর) শ্রীকাইল ইস্ট রুপকল্প-১ নতুন একটি গ্যাস ক্ষেত্রের উত্তোলন কাজ সফল ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সংযোগ লাইন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়নি। প্রায় ৫ কি.মিঃ গ্যাস লাইন নতুন সংযোজন করলেই জাতীয় গ্রীডের সাথে শ্রীকাইল পূর্ব গ্যাস ক্ষেত্রটি সংযুক্ত হবে। এ ছাড়াও শ্রীকাইল সরকারি কলেজের পূর্বে বিগত ৩ বছর পূর্বে বাপেক্সের অনুসন্ধানে একটি গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। ইতিমধ্যে এই কূপের চারপাশে বালু দিয়ে ভরাট করা ও সংযোগ সড়কের কাজ চলছে। 

‘আমাদের গ্যাস আমাদের অধিকার’ শীর্ষক সংগঠনের নেতা সাংবাদিক এমকেআই জাবেদ বলেন, গ্যাস আমাদের এলাকা থেকে উত্তোলিত হচ্ছে এবং কৃষি জমির নিচ ও এলাকার উপর দিয়ে জাতীয় গ্রীডে সরবরাহ করা হয়, অথচ আমরা অবহেলার শিকার হচ্ছি। আমাদের গ্যাস সারা দেশে সরবরাহ হচ্ছে তা যেমন গর্বের, তেমনি আমাদের গ্যাস আমাদের ভোগ করার ন্যায্য অধিকারও রয়েছে। যদি এলাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভাবে গ্যাস প্রদান করা হয়, তাহলে গ্রামের মানুষের জীবন যাত্রার মানোন্নায়ন হবে এবং শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ার সুযোগ হলে অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!