শব্দ দূষনের কবলে অতিষ্ঠ নগরবাসী নগরবাসী।

           

সাকলাইন যোবায়েরঃ

মাইকের শব্দ,বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বড় বড় লাউড স্পিকারের শব্দ. ফিটনেস বিহীন যানবাহনের শব্দ,ঘড়-বাড়ি তৈরি করার জন্য ইট-কংক্রিট ভাঙ্গার মেশিনের শব্দ ও টাইলস কাটার মেশিনের শব্দ,  গাড়ির হাইড্রোলিক হর্ণের বিকট শব্দে,বিয়ে ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে সাউন্ডবক্সে গান বাজনার শব্দ দূষনের কবলে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নগরবাসী। গত কয়েক দিন আগে জেলা আইন শৃংখলা বাহিনীর সভায় কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, ওয়াজের নামে ব্যাপক শব্দদূষন হয় যা মোমলমতী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষতিকর। যে স্থানে মাহফিল ও অন্যান্য ধর্মালম্বীদের অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামজিক অনুষ্ঠান করা হবে সেখানে অবশ্যই সাউন্ড সিস্টেমটি পেন্ডেলের ভেতরে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কুমিল্লা নগরীতে শব্দ দূষনের  মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। দূষণের মাত্রা বাড়লেও এর বিরুদ্ধে আইনগত কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। বাস, মিনিবাস, ট্রাক, বেবী টেক্সী, ইট-বালি বহন করার ট্রাক,প্রাইভেট কার, টেম্পো প্রভৃতি যানবাহনের স্কুল,কলেজ,হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে হরন বাজানো নিষেধ হলেও বাস-ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন হাইড্রলিক হর্ণ বাজিয়ে থাকে। অথচ শব্দ দুষণ প্রতিরোধে হাইড্রলিক হর্ণ বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এক শ্রেণীর গাড়ি চালক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, হাসপাতালের পাশ দিয়ে যাবার সময়ও উচ্চ শব্দে হাইড্রলিক হর্ণ বাজিয়ে থাকে। আইনতঃ এটা নিষিদ্ধ হলেও আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধ কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়না। 

এর পাশাপাশি মাইকের যথেচ্ছ ব্যবহার পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ হয়ে দঁাড়িয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হাসপাতালের উপর মাইক লাগিয়ে অনুষ্ঠান করতে দেখা যায়।  দিন রাত মাইক ব্যবহার করে  রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠনের সভা-সমাবেশ,বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মাইকের ব্যবহার,গান-বাজনা, সার্কাস, হাউজী খেলা, মেলা, লটারীর টিকেট বিক্রি, রাস্তার পাশে ঔষধ বিক্রি,পণ্য সামগ্রীর প্রচার, মাইক বাজিয়ে ভিক্ষা বৃত্তি, বিয়ে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আচার অনুষ্ঠানে উচ্চ আওয়াজে মাইক ও লাউড স্পিকার ফুল সাউন্ড দিয়ে বাজানো হয়ে থাকে। যা মানুষ এবং পরিবেশের শব্দ দূষনের জন্য ক্ষতিকর। সংশি­ষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া মাইকের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধে কোন আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করা হয় না। যার কারণে শব্দ দূষণও বেড়ে চলেছে। সরজমিনে কুমিল্লার বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদির সময়ে হাসপাতালের ছাদের উপরে মাইকের ব্যবহার দেখা যায়। বিগত ত্বত্তাবধায়ক সরকারের সময় রাত ১২টা পর্যন্ত মাইক ব্যবহারের অনুমতি ছিল কিন্তু বর্তমানে শহরের বিভিন্ন স্থানে রাত ১২টার পরও মাইকের ব্যহার দেখা যায় । মাইকের বিকট  শব্দ সন্ত্রাস থেকে পরিত্রান পাওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নগরবাসী। 

You might also like
error: Content is protected !!