লাকসামে হঠাৎ দামের ঝাজে অস্থির পেঁয়াজের বাজার।

ফারুক আল শারাহ: 

কুমিল্লার লাকসামে হঠাৎ দামের ঝাজে অস্থির হয়ে ওঠেছে পেঁয়াজের বাজার। পাইকারি ও খুচরা বাজারে কেজি প্রতি পেঁয়াজে ৩০/৪০ টাকা দাম বেড়েছে। ভারত রফতানি বন্ধ করায় দাম বৃদ্ধির কথা ব্যবসায়ীরা জানালেও ক্রেতারা তা মানতে নারাজ। একদিনের ব্যবধানে দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় ক্ষুব্ধ তারা।  

বৃহত্তর লাকসামের (লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, নাঙ্গলকোট ও লালমাই) অঞ্চলের সর্ববৃহৎ ব্যবসায়িক কেন্দ্র দৌলতগঞ্জ বাজার। এ বাজারে হরেক রকম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পেঁয়াজের অসংখ্য পাইকারি মোকাম রয়েছে। এসব মোকামে দাম বাড়ার সাথে সাথেই খুচরা বাজারে প্রভাব পড়ে। কিন্তু এবার সমানতালে পাইকারি ও খুচরা বাজারে হঠাৎ দাম বেড়ে গেছে। 

দৌলতগঞ্জ বাজার ঘুরে এবং নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ বাজার সমূহে খবর নিয়ে পেঁয়াজের ঝাজ বাড়ার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ অঞ্চলের প্রায় সবগুলো বাজারে প্রচুর পরিমাণে পেঁয়াজ মজুদ থাকলেও পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা নিজেদের খেয়াল খুশিমত দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। সেপ্টেম্বরের শুরুতে সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা (খুচরা মুল্য) দরে বিক্রি হলেও এখানে ক্রমাগত বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দৌলতগঞ্জ বাজারে পেঁয়াজের খুচরা বাজারে কেজি প্রতি সর্বোচ্চ ৫০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও একদিনের ব্যবধানে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা হারে বেড়ে যায়। কোন কোন বিক্রেতা দ্বিগুণ হারেও বাড়িয়ে দিয়েছেন। 

গণমাধ্যমকর্মী পরিচয়ে দৌলতগঞ্জ বাজারের দাম পাইকারি মোকামে দাম জানতে গিয়ে জানা যায়, ওই বাজারের রেদোয়ান ষ্টোরে কেজি প্রতি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, জাহাঙ্গীর ব্রাদার্স, মা ট্রেডার্স, আমান এন্ড সন্স ও সাদ্দাম ট্রেডাসে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা হারে খুচরা বিক্রেতাদের নিকট পাইকারি ক্রেতারা বিক্রি করছেন। তবে কেউ কেউ আরো বেশি দামেও বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভারত রফতানি বন্ধ করার অজুহাত দেখিয়ে তারা খেয়াল খুশিমতো দাম আদায় করছেন। খুচরা বিক্রেতারা পাইকারি মোকাম থেকে কিনে নিয়ে কেজি প্রতি ৭০, ৮০, ৯০ আবার কেউ কেউ ১০০ টাকা হারেও বিক্রি করছেন। এককথায় খুচরা দোকানে দামের তফাৎ প্রায় দ্বিগুণ।   

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। মূলত এ খবর ছড়িয়ে পড়ার কারণে দৌলতগঞ্জসহ বৃহত্তর লাকসামের প্রায় সকল বাজারে তাৎক্ষনিক পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। তাদের দাবি, শুধু দৌলতগঞ্জ বাজার নয়। সারাদেশেই দাম বেড়েছে। গেলবারের মতো পেঁয়াজের দাম ত্রিপল সেঞ্চুর (৩০০) টাকা হবে বলেও কোন কোন ব্যবসায়ী ধারণা করছেন। 

এদিকে পূর্বের ন্যায় পেঁয়াজের বাজারে সঙ্কট দেখার আশঙ্কায় প্রয়োজন না থাকলেও অধিকাংশ ক্রেতা পেঁয়াজ কিনছেন। দৌলতগঞ্জ বাজারের মুদি দোকানগুলোতে পেঁয়াজের জন্য ক্রেতাদের উপচেপড়া ভীড় দেখা গেছে। হঁাটা-চলায় বেশিরভাগ মানুষের হাতেই পেঁয়াজের ব্যাগ দেখা গেছে। 

একাধিক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, করোনাভাইরাসে এমনিতেই মানুষ চরম অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়েছে। পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল না থাকলে মানুষকে আরো বেশি সমস্যায় পড়তে হবে। এজন্য তারা স্থানীয় বাজার সমূহে প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানের পাশাপাশি জাতীয়ভাবে বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। 

এদিকে, দৌলতগঞ্জ বাজারে পাইকারি মোকাম ও খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির সংবাদ শুনে মঙ্গলবার তাৎক্ষনিক ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান শুরু করেন লাকসাম উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রাণী চাকমা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.কে.এম সাইফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!