মুরাদনগরে দাদীকে খুনের দায়ে নাতি কারাগারে।

শামীম আহম্মেদঃ

নাতির শাবলের আঘাতে বৃদ্ধ দাদীর মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটেছে। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়নের আমিননগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ উক্ত ঘটনায় জড়িত নাতি দেলোয়ার হোসেনকে শুক্রবার দুপুরে আটক করেছে। এ ব্যাপারে বাঙ্গরা বাজার থানায় মামলা হয়েছে। 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, আমিননগর গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২৮) বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৮টায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তার মা আমেনা খাতুনকে শাবল দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করে। তখন সে চিৎকার দিয়ে ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। মাকে না পেয়ে পাশের ঘরে থাকা দাদী মিলনের নেছাকে (৮২) শাবল দিয়ে পিটিয়ে গুরতর জখম করে। পরে চিৎকার শুনে আশ-পাশের লোকজন এসে তাকে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। এলাকাবাসী নাতি দেলোয়ার হোসেনকে আটক করে থানায় খবর দেয়। বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ শুক্রবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত মিলনের নেছার লাশ উদ্ধার পূর্বক ময়না তদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। পুলিশ উক্ত ঘটনায় জড়িত নাতি দেলোয়ার হোসেনকে শুক্রবার বিকেলে আদালতে সোপর্দ করেছে। বিজ্ঞ বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণ করার নির্দেশ দেয়। 

ধৃত দেলোয়ার হোসেনের মা আমেনা খাতুন বলেন, আমার ছেলে মানুষিক প্রতিবন্ধী। প্রায়ই সময় ছোটখাট বিষয় নিয়ে আমার উপর হামলা করেন। বৃহস্পতিবার রাতেও তার বাবা এশার নামাজ পড়তে যায়। তখন সে আমার কাছে ভাত চায়। ভাত দিতে দেরী হওয়ায় দেলোয়ার শাবল দিয়ে আমাকে আঘাত করতে আসলে আমি চিৎকার দিয়ে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেই। আমাকে না পেয়ে পাশের ঘরে থাকা আমার স্বাশুড়িকে শাবল দিয়ে আঘাত করে দেলোয়ার। কিছুক্ষণ পর ঘর থেকে বের হয়ে দেখি আমার স্বাশুড়ি ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে। পরে আমাদের চিৎকার শুনে এলাকার লোকজন এসে তাকে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।   

বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ছেলে জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা রুজু করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত দেলোয়ার হোসেন দাদী মিলনের নেছাকে শাবল দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে।

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!