ব্রাহ্মণপাড়ায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর দেড় বছর পর ফিরে পেল চা বিক্রেতা মাইনুদ্দিন।

রেজাউল হক শাকিলঃ
প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা ইউনিয়নের বড়ধুশিয়া গ্রামে মাইনুদ্দিন নামের এক চা বিক্রেতার জন্য নির্মাণ করা বাড়ি দেড় বছর ধরে জোরপূর্বক দখল করে রাখে ইউপি সদস্য জাকির হোসেন। 
উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আজ সোমবার সকালে দখল উচ্ছেদ করে সেই চা বিক্রিতা মাইনুদ্দিনকে সরকারি ভাবে নির্মাণ করা ঘরটির দখল বুঝিয়ে দেন। ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন উপজেলা প্রশাসন। 
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা ইউনিয়নের বড়ধুশিয়া গ্রামের হতদরিদ্র মৃত আবু তাহেরের ছেলে মাইনুদ্দিন। পেশায় একজন চা বিক্রেতা। অভাবের সংসারে চা বিক্রি করে চলে তার সংসার। পৈত্রিকসুত্রে পাওয়া ছোট্ট ভিটায় ছিল ছাপড়া ঘর। গত ২০১৯-’২০ অর্থবছরে “জমি আছে ঘর নাই” প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় মাইনুদ্দিনের নামে একটি ঘর বরাদ্দ আসে। যথারীতি ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন অফিস বাড়িটি নির্মান কাজ শেষ করে। এসময় মাইনুদ্দিন ঘরটির দখল নিতে পারেনি। 
মাইনুদ্দিনের চাচাত ভাই চান্দলা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের সদস্য জাকির হোসেন মাইনুদ্দিনের কাছে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করেন। টাকা দিতে না পারায় ইউপি সদস্য জাকির নিজেই বসবাস শুরু করেন। আর এভাবেই কেটে যায় প্রায় দেড় বছর। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে স্থানীয় প্রামবাসী নিরিহ মাইনুদ্দিনের পক্ষে অবস্থান নেয়। তারা ব্রা‏হ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফৌজিয়া ছিদ্দিকার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। 
আজ সোমবার দুপুরে ব্রা‏হ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ফৌজিয়া ছিদ্দিকা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী ঘটনাস্থলে গিয়ে ইউপি সদস্য জাকির হোসেনকে বাড়িটি দখল করে রাখার বিষয়টি দেখতে পায়। পরে তারা ইউপি সদস্য জাকির হোসেনকে ঘর থেকে বের করে মাইনুদ্দিনকে ঘরটি বুঝিয়ে দিয়েছেন। 
চা বিক্রেতা মাইনুদ্দিন বলেন, আমি বাড়ি বিক্রি করিনি। আমার কাছে জাকির মেম্বার ৩০ হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছেন। না দেওয়ায় বাড়িটি দেড় বছর ধরে দখল করে রাখেন। বাড়িটির দখল দেওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং ধন্যবাদ জানাই।
চান্দলা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড সদস্য জাকির হোসেন বলেন, মাইনুদ্দিন আমার চাচাতো ভাই। সে এই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় আমি নিজেই এই বাড়িতে বসবাস করছি। বাড়িটি আমাদের কাছে বিক্রি করেছে। আমি তার কাছে কোন ধরনের ঘুষ দাবী করিনি। 
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফৌজিয়া সিদ্দিকা বলেন, এই ঘর অসহায় গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দ। চা বিক্রেতা মাইনুদ্দিনের জন্য ঘরটি বরাদ্দ ছিল এবং তৈরি হয়েছে। ইউপি সদস্য জাকির হোসেন বাড়িটি দখল করে রেখেছেন এ অভিযোগের ভিত্তিতে বাড়িটি উদ্ধার করতে গিয়ে দেখতে পাই ইউপি সদস্য বাড়িটিতে বসবাস করছেন। তিনি প্রশাসনকে জানিয়েছেন মাইনুদ্দিন ও তার ভাইয়েরা তাকে দলিল করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, জাকির হোসেনকে বাড়ি থেকে বের করে মাইনুদ্দিনকে ঘরটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি ঘর ইউপি সদস্য দখল করে রাখায় তঁার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

You might also like
error: Content is protected !!