তাকওয়া ফাউন্ডেশনের মানবিক উদ্যোগ:নাঙ্গলকোটে করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গে মারা যাওয়া ১৪ মরদেহ দাফন।

ফারুক আল শারাহ:
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গে মারা যাওয়া ১৪ ব্যক্তির মরদেহ দাফন করেছে সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তাকওয়া ফাউন্ডেশন। যে মুহুর্তে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে এবং উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের দাফনে ছেলে-মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশিরা ভয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন-সে সময়ে মানবিকতা নিয়ে মৃত ব্যক্তির পাশে দাঁড়াচ্ছে তাকওয়া ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা। শেষ বিদায়ে তারাই হচ্ছেন মৃত ব্যক্তির সারথী।
জানা যায়, করোনা দূর্যোগের শুরু থেকে নাঙ্গলকোটে তাকওয়া ফাউন্ডেশনের ১০ সদস্যের স্বেচ্ছাসেবী টিম করোনায় আক্রান্ত হয়ে এবং করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের দাফনের ঘোষণা দেন। এ লক্ষ্যে টিম প্রধান সাজ্জাদ হোসাইন রাহাত (২৩) এর নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লামইয়া সাইফুলের সাথে সাক্ষাত করে তাদের ইচ্ছার কথা জানান। নির্বাহী কর্মকর্তা তাদেরকে উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
গত ১১ মে নাঙ্গলকোটে করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এবং উপসর্গে মারা যাওয়া ১৪ ব্যক্তির মরদেহ দাফন করেছেন। তাদেরকে তাকওয়া ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা শরীয়াহ সম্মতভাবে পরম যতেœ দাফন সম্পন্ন করেছেন। প্রতিটি মরদেহ দাফনে স্বেচ্ছাসেবীদের পিপিই, মাস্ক, গ্লাভস সহায়তা দিয়ে আসছে তাকওয়া ফাউন্ডেশন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লামইয়া সাইফুল ইতোমধ্যে ৫টি মরদেহ দাফনে গাড়ি সহায়তা দিয়েছেন।
তাকওয়া ফাউন্ডেশনের টিম প্রধান সাজ্জাদ হোসেন রাহাত অত্যন্ত আন্তরিকভাবে মরদেহ দাফনে এগিয়ে আসছেন। তিনি টিমের সদস্যদের নিয়ে সর্বদা প্রস্তুত থাকেন। ফোন আসলেই ছুটে যান। চলমান করোনা দূর্যোগে যে মুহুর্তে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এবং উপসর্গে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের দাফনে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশি ভয়ে এগিয়ে আসছে না সে মুহুর্তে ঝুঁকি নিয়ে পরম যত্নে মরদেহ দাফনে মানবিকতা দেখাচ্ছে তাকওয়া ফাউন্ডেশন।
মানবিক এ সংগঠনটি শুধু মরদেহ দাফন নয়, জনকল্যাণমুখী কর্মকান্ডেও ভূমিকা রেখে আসছে। নাঙ্গলকোটে করোনা আক্রান্ত কেউ শ্বাসকষ্টে ভোগলে তাকে মুহুর্তেই বিনামূল্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিচ্ছেন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা। এক্ষেত্রে নাঙ্গলকোট পাটোয়ারি জেনারেল এন্ড আধুনিক ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এবং ঢালুয়া মেডিকেল সেন্টার তাদেরকে সিলিন্ডার সহায়তা দিয়ে আসছে।
তাকওয়া ফাউন্ডেশন বন্যা পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, রোহিঙ্গাদের সহযোগিতাসহ সুবিধাবঞ্চিতদের কল্যাণে বিভিন্ন জনকল্যাণমুলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নাঙ্গলকোটে সংগঠনের প্রাণ সাজ্জাদ হোসাইন রাহাত অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে অন্যান্য দায়িত্বশীলদের সাথে সমন্বয় করে টিউশনি থেকে উপার্জিত অর্থে মরদেহ দাফনসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমুলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছেন। তাদের এমন মানবিকতা সর্বমহলে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।
তাকওয়া ফাউন্ডেশনের টিম প্রধান সাজ্জাদ হোসাইন রাহাত জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে তাকওয়া ফাউন্ডেশন মানবিকতা নিয়ে সমাজের সমস্যাগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে কাজ করে আসছে। চলমান করোনা দূর্যোগে নাঙ্গলকোটে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এবং উপসর্গে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের দাফন করতে পেরে আমরা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। সেই সাথে আমরা গর্ববোধ করছি যে, এ দূর্যোগে কিছুটা হলেও মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করতে পেরেছি।
তিনি আরো জানান, শুরু থেকেই নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করে আসছেন। করোনা পরিস্থিতিতে মৃত ব্যক্তিদের দাফন, বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লামইয়া সাইফুল জানান, করোনায় আক্রান্ত হয়ে এবং উপসর্গে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের দাফনে তাকওয়া ফাউন্ডেশন আন্তরিকভাবে কাজ করে আসছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের মানবিক কর্মকান্ডে উৎসাহ প্রদানের পাশাপাশি সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। নাঙ্গলকোটে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন।

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!