গোমতী বাঁধের চিত্র পালটে গেছে সৌরবিদ্যুতে, অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
কুমিল্লার গোমতী নদী- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কাল এবং এর ইতিহাস রচনায় অন্যতম একটি উচ্চারিত নাম। দেশের মুক্তিপাগল মানুষ প্রশিক্ষণ আর অস্ত্রের সন্ধানে এ নদী পার হতো। আবার প্রশিক্ষণ শেষে এপারে এসে শত্রু সেনাদের ওপর আক্রমণ চালাতেন। কুমিল্লার শহর থেকে বিবির বাজার স্থলবন্দর পার হলে ওপারেই ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই ত্রিপুরা রাজ্য ছিল বাংলাদেশিদের জন্য একটি অন্যতম শরণার্থী স্থান। কুমিল্লার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের ওপারে ত্রিপুরার মতিনগরে ছিল মুক্তিযুদ্ধকালীন ২ নম্বর সেক্টরের অস্থায়ী হেডকোয়ার্টার। এক সময়ে গোমতী নদীর পাড় থাকতো ঘুটঘুটে অন্ধকার। এখন দিন বদলে গেছে। গোমতী নদীর বাঁধ রাতে থাকে আলো ঝলমলে। আর সেটি হয়েছে সৌরবিদ্যুতের সড়কবাতির কল্যাণে।
গোমতী বাঁধ এখন ভারত এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রাখছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। প্রতিদিন শত শত ট্রাকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য ভারতে রপ্তানি হচ্ছে। পণ্যবাহী এসব ট্রাক সন্ধ্যার পর স্থলবন্দরে যেতে থাকে। সৌরবিদ্যুতের সড়কবাতি স্থাপনের ফলে গোমতী বাঁধ ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র ছাড়াও এখন হয়ে উঠেছে কুমিল্লার নগরবাসীর বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্রও। তাদের সারাদিনের বা সপ্তাহের কর্মব্যস্ততার একঘেঁয়েমি মুছে ফেলতে হাতের কাছের এই বাঁধই সবচেয়ে সহজ স্থান। পরিবার, বন্ধুবান্ধব নিয়ে বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তারা ঘোরাফেরা করেন, গল্পগুজব, আড্ডা দিয়ে সময় কাটান। বেশি ভিড় লক্ষ্য করা যায় গোমতী নদীর ওপর টিক্কার চর ব্রিজে।
সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অন্যতম অংশীদার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) সহযোগী প্রতিষ্ঠান পেজ ডেভেলপমেন্ট সেন্টার গত তিন অর্থবছর সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের টিআর/কাবিটা কর্মসূচির আওতায় কুমিল্লার সদর উপজেলায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এ অঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠী উপকার পাচ্ছেন। এছাড়াও বেশ কিছু সোলার হোমসিস্টেম দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ, বিনামূল্যে সৌরবিদ্যুৎ’ এবং ‘গ্রাম হবে শহর’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় নিরলসভাবে কাজ করে এই প্রকল্পকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহ।
পেজ ডেভেলপমেন্ট সেন্টার ২০১৬-১৭, ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কুমিল্লার সদর উপজেলায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে ১০০টি, ১৬৩টি মসজিদে, ৩টি মন্দিরে, ৫১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করেছে। আর বিভিন্ন সরকারি অফিস এবং প্রতিষ্ঠানে পাঁচটি এসি/ডিসি সিস্টেম স্থাপন করেছে। আর সোলার স্ট্রিটলাইট বা সৌর সড়কবাতি স্থাপন করেছে মোট ১১২৪০

এই উপজেলায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে বিপুলসংখ্যক সৌর সড়কবাতি।’ গোমতী বাঁধের দুই পাশে যেভাবে আলোকিত করা হয়েছে, এতে করে বিবির বাজার স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্য আরো বৃদ্ধি পাবে।

You might also like
error: Content is protected !!