কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের এসএসসি'র রেজাল্ট পুনঃনিরীক্ষণের জন্য ১৭ হাজার ৬৭৭ জন শিক্ষার্থীর আবেদন।

এম.এইচ মনিরঃ
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার  ফল চ্যালেঞ্জ করে ১৭ হাজার ৬৭৭ পরীক্ষার্থী মোট ২৪ বিষয়েরু ৩৯ হাজার ৩০৩ টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছে। অনলাইলে এবং মোবাইল ফোনের ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে উত্তরপত্র পুনঃমূল্যায়নের জন্য তারা এ আবেদন করেছে। আগামী ৩০ জুন পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হবে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, গত ৩১ মে সারা দেশে এসএসসি সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড থেকে এ বছর ১ লাখ ৫৯ হাজার ৭০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৫৬০ জন। গত বছরের তুলনায় কমেছে পাসের হার, কিন্তু জিপিএ -৫ এর সংখ্যা বেড়েছে। ৩টি বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ হাজার ২৪৫ জন। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে তিনটি বিভাগে গড় পাসের হার ৮৫.২২ শতাংশ।
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম  জানান, এবার কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার  ফল চ্যালেঞ্জ করে ১৭ হাজার ৬৭৭ শিক্ষার্থী ৩৯ হাজার ৩০৩ টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছে। ফলাফল চ্যালেঞ্জ করা  শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগ আবেদন পড়েছে গণিত,সমাজ বিজ্ঞান,ইসলাম শিক্ষা ও ইংরেজি বিষয়ে। ১২টি পত্রের মধ্যে সর্বনিম্ন একটি থেকে সর্বোচ্চ ৪-৫টি পত্র চ্যালেঞ্জ করার রেকর্ডও রয়েছে। কুমিল্লা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি পড়েছে গণিত বিষয়ের খাতা পুনঃনিরীক্ষার আবেদন, ৮ হাজার ৬৩৮টি। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের খাতা পুনঃনিরীক্ষার , ৩ হাজার ৮৮৪ টি আর তৃতীয় স্থানে আছে ইসলাম শিক্ষা ৩ হাজার ৩৯৭ টি আবেদন। এছাড়া ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের খাতা পুনঃনিরীক্ষার আবেদন ২ হাজার ৮৯০টি। সবছেয়ে কম আবেদন পড়েছে বৌদ্ধ ধর্ম শিক্ষা ৪টি, অবশ্য এ বিষয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও নগন্য।
বোর্ড সূত্র জানায়, পাবলিক পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরীক্ষার ক্ষেত্রে সবক’টি উত্তরে নম্বর দেয়া হয়েছে কিনা, প্রাপ্ত নম্বর গণনা ঠিক রয়েছে কিনা, প্রাপ্ত নম্বর ওএমআর শিটে (কম্পিউটারে ফল প্রণয়নে পাঠযোগ্য ফরম) উত্তোলনে ভুল হয়েছে কিনা এবং প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী ওএমআর শিটের বৃত্ত ভরাট ঠিক আছে কিনা, এসব বিষয় দেখা হয়। তবে সেই খাতায় নতুন করে নম্বর দেওয়া হয় না কখনো।
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান  প্রফেসর মো.আব্দুস ছালাম বলেন, ‘বরাবরের মতো অনেক পরীক্ষার্থী নিজেদের ফলে সন্তোষ্ট না হয়ে পুনঃনিরীক্ষার জন্য আবেদন করেছেন। নিয়ম অনূযায়ী এসব খাতা নতুনভাবে নিরীক্ষা করা হবে।’ তিনি আরো বলেন, এসব আবেদনকারীর মধ্যে যারা এক বা দুই নম্বর কম পাওয়ায় জিপিএ-৫ পান, তারা আছে অথবা কৌতুহলীও কেউ কেউ আবেদন করেছে।
উল্লেখ্য, গত ৩১ মে ফল প্রকাশের পরদিনই ০১ জুন থেকে শুরু হয় খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন প্রক্রিয়া। চলে ৭ জুন পর্যন্ত। আবেদনকারীরা ফল জানতে পারবে আগামী ৩০ মে। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে গণিতে গত বছর পাশের হার ছিল ৯৩.৭৭ শতাংশ এবং এবার পাশ করেছে ৮৮.৯৩ শতাংশ। অন্য বিষয়ে ধারাবাহিকতা থাকলেও গণিতে তুলনামূলক পাশের হার কিছুটা কমেছে। পাসের হার ১.৯৪ শতাংশ কমে যাওয়ার পেছনে এটাই বড় কারণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

You might also like
error: Content is protected !!