কুমিল্লা গোমতীর তীরে সবুজের সমারোহ।

সাকলাইন যোবায়েরঃ
কুমিল্লা গোমতী নদীর তীরের গ্রাম গুলোতে চোখ ধাধানো শীতকালীন শাক-সবজির সবুজের সমারোহে মন ভরে যায়। শীতকালের মৌসুমী শাক-সবজির চাষ করে কৃষকরা যেমন লাভবান হচ্ছেন তেমনি কুমিল্লা বসবাসকারী লোকজনের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন বাজারে যাচ্ছে কুমিল্লার কৃষকদের চাষকৃত সবজি।

গোতমী নদীর তীরবর্তী বাধের উপর দাড়িয়ে ওখানের বেশ কয়েকজন কৃষককে বড় বড় আকৃতির  ধবধবে সাদা মুলা পরিস্কার করে  পরিবহনে তুলতে দেখা যায়। তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, কুমিল্লার বাজারে মুলার দাম কম থাকায় আমরা এসব মুলা পরিবহনে করে চট্টগ্রামের রেয়াজউদ্দিন বাজারে বিক্রি করবো এবং ওইখানে শীতকালীন কুমিল্লার চাষকৃত মুলার ভাল দাম পাওয়া যায়।  কুমিল্লা সদর উপজেলার গ্রাম গুলো থেকে শুরু জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা । কুমিল্লা জেলা সদরের পাচথুবি,জগন্নাথপুর,বিবির বাজার,অরণ্যপুর, বাজগড্ডা,কাইপুর,গাজীপুর,সূবর্ণপুর, শাহপুর,গোলাবাড়ি,মাঝিগাছা, শাওয়ালপুর,আমড়াতলী,মাঝিগাছা,আমড়াতলি এবং গোমতী নদী তীর  সহ বিভিন্ন গ্রামে বাধাকপি, ফুলকপি, মূলা, শিম, টমেটো, ধনেপাতা,কাঁচামরিচ, পালং শাক, টক পালং, পেয়াজের ফুল, নতুন আলু ,সরিষার চাষসহ শীতকালীন সবজি চাষ করছেন কৃষকরা । এসকল গ্রামের বিস্তীর্ণ দিগন্তের ক্ষেত গুলোর দিকে শীতকালীন সবজির চোখ ধাধানো সবুজের সমারোহে দেখে মনে হয় যেন দিগন্ত জুড়ে সবুজের চাদর বিছিয়ে রাখা হয়েছে। শীতকালীন মৌসুমি শাক-সবজিতে ভরে উঠেছে কৃষকের ক্ষেত খামার। প্রতিদিন বিকেলে গোমতী নদীর ওপারের ক্ষেতগুলো থেকে কৃষকরা   বাধাকপি, ফুলকপি, মূলা, পালংশাক,টমেটু,মুলা ইত্যাদী কেটে বড় বড় ওড়া বা টুকরিতে করে ভাড় করে কাধে ঝুলিয়ে বা মাথায় নিয়ে ক্ষেত থেকে মাথায় করে রাস্তার পাশে রাতের শিশিরে ভেজার জন্য রেখে যায় এবং সকালে তা নগরীর বাজার গুলোতে এনে বিক্রি করে। শীতকালীন এ সকল সবজি চাষে করে স্থানীয় কৃষকদের কিছুটা সচ্ছলতা আসলেও কষ্টের তুলনায় তা খুবই কম কিন্তু এতে পকেট ভাড়ি হয় খুচরা বিক্রেতাদের। কুমিল্লার সবচেয়ে বড় সবজির বাজার নিমসার বাজারে এ সকল গ্রামের উৎপাদিত সবজি বিক্রি হয়। এছাড়া শহরের চকবাজার , রাজগঞ্জ,নিউ মাকের্ট, বাদশা মিয়ার বাজার, রানীর বাজার, হাউজিং এষ্টেট গোল মাকেট, বালুতুপা বাজার ,বিবির বাজার সহ বিভিন্ন বাজারে ওই সব গ্রামের সবজি কেনা-বেচা হয়। গতকাল কথা হয় গোমতীর তীরবর্তী জালুয়াপাড়া এলাকার কৃষক সামছুদ্দিন মিয়া ও গোলাম রাব্বানী জানান, জমিতে ফুলকপি লাগিয়েছে ভাল ফলন হয়েছে তাই এগুলো বাজারে বাজারে বিক্রি করতে কুমিল্লার চকবাজার  ও রাজগঞ্জসহ বিভিন্ন বাজারে নিয়ে যাব । আলু চাষী কৃসক আবদুল জব্বার বলেন, এখানকার আবহাওয়া আলু সহ অন্যান্য শীতকারীন সবজির উপকূলে বিধায় এখানে ক্ষতিকর কিটনাশক দিতে হয় না। কুমিল্লার গোমতী তীরবর্তী পাচথুবি গ্রামের উৎপাদিত মূলা চট্রগ্রামের রেয়াজউদ্দিন বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হয়। নদী পাড়ের এসকল গ্রাম গুলোতে শীতকালের মৌসুমি সবজি চাষ করে অনেক কৃষক তাদের  সংসারে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। কুমিল্লার সীমান্তবর্তী গোমতী পাড়ের গ্রাম গুলোতে মৌসুমি ও শীতকালীন সবজি সহ বিভিন্ন প্রকার ফসল চাষ করে ওই সকল গ্রামের নিম্ন আয়ের লোকজনের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়েছে। ফুলকপি প্রকারভেদে ১৫ টাকা ও ২৫ টাকা,নতুন আলু ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা,পালংশাক ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা,বাধাকপি ছোট বড় প্রকারভেদে ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে,শীতকালীন পেয়াজের ফুল প্রতিকেজি ৪০ টাকা,টক পালংয়ের আটি ২০ টাকা,টমেটে প্রকারভেদে প্রতি কেজি ৮০ টাকা ও ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়, শিম প্রতিকেজি ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হয় শীতকালের অন্যতম সবজি মুলার হালি বিক্রি হয় ১০ টাকা থেকে ৫০ টাকা দরে। কুমিল্লার চান্দিনা, দাউদকান্দি,মেঘনা, তিতাস, মুরাদ নগর, বুড়িচং, লাকসাম তাই কৃষকরা মনে করেন, এখানে  পর্যাপ্ত হিমাগার স্থাপন করলে কৃষকরা তাদের বহু কষ্টের উৎপাদিত ফসলের উপযুক্ত দাম পাবে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভাল থাকায় এবং আবহাওয়া শীতকালীন সবজি চাষের অনূকুলে থাকায় সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে ও দামও গতবছরের তুলনায় ভাল পাওয়া যাচ্ছে। নগরীর বাজার গুলোতে এগুলো বিক্রি করা হয়। বর্তমানে কৃষকরা শীতকালীন সবজি বিক্রি করে সুফল পাচ্ছেন। সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারী পর্যায়ে হিমাগার স্থাপন করা হলে  এ অঞ্চলের কৃষকদের দুঃখ – দূদর্শা আরো লাঘব হবে বলে তারা জানান। 

You might also like
error: Content is protected !!