কুমিল্লায় কলেজ ছাত্র সায়েম হত্যার মুল দুই আসামী ঢাকা থেকে গ্রেফতার।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার নগরীপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে ও চাঁদপুর পুরাতন বাজার ডিগ্রী কলেজের আনার্স ইংরেজি বিভাগের ১ম বর্ষের ছাত্র মোঃ নাহিদুল ইসলাম সায়েম (২২) হত্যা মামলার মুল আসামী এ.এস.এম মাইনুল ইসলাম প্রকাশ্যে লিংকন পাটেয়ারী (২৬) ও তাঁর ছোট ভাই এ.এস.এম মিনহাজুল ইসলাম প্রকাশ্যে লিপন পাটোয়ারী (২০)’কে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে কুমিল্লা ডিবি পুলিশের একটি দল। 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত ৪ জুলাই সকালে একই এলাকার জসিম পাটোয়ারীর ছেলে লিংকন পাটোয়ারী, লিমন পাটোয়ারী, লিপন পাটোয়ারী, শাহাজাহান পাটোয়ারীর ছেলে মোঃ দিদারুল ইসলাম পাটোয়ারী, মৃত গফুর পাটোয়ারীর ছেলে জসীম পাটোয়ারী, জসীম পাটোয়ারীর ছেলে শাহিনা পারভীনসহ আরো অজ্ঞাত ৪/৫ জনের একটি দল নাহিদুল ইসলাম সায়েম’কে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনার চার দিন পর ৮ জুলাই চিকিৎসাধিন অবস্থায় সায়েমের মৃত্যু হয়। 

ওই দিনই নিহত সায়েমের মা পারুল বেগম বাদী হয়ে লাকসাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার এক মাসেও আসামীদের গ্রেফতার করে না পারায়, গত ৮ আগস্ট মামলাটি কুমিল্লা ডিবিতে হস্থান্তর করা হয়। কুমিল্লা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মোঃ সাজ্জাদ হোসেন তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে গত ২৮ আগস্ট মামলার ৪ নং আসামী মোঃ দিদারুল ইসলাম পাটোয়ারীকে রজধানীর আদাবর থানাধীন শেখেরটেক এলাকার একটি বিল্ডিং এর ৩য় তলা থেকে গ্রেফতার করে। 

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোর রাতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মোঃ সাজ্জাদ হোসেন এল আই সি টিমের সহযোগীতায়, এস আই চন্দন সিনহা, এ.এস.আই নাজমুল সঙ্গীয় ফোর্সসহ রাজধানীর উত্তরা ১৪ নং সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে মামলার এজহারভূক্ত ১ নং আসামী এ.এস.এম মাইনুল ইসলাম প্রকাশ্যে লিংকন পাটেয়ারী ও তাঁর ছোট ভাই এ.এস.এম মিনহাজুল ইসলাম প্রকাশ্যে লিপন পাটোয়ারী’কে গ্রেফতার করে। 

গ্রেফতারকৃত দুই আসামীকে বৃহস্পতিবার কুমিল্লা আদালতে হাজির করলে আসামীদ্বয় হত্যার ঘটনা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মামলার ১, ২ ও ৩ নং আসামীরা আপন ভাই। এর মধ্যে ১ নং আসামী একজন হ্যকার, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সে দীর্ঘদিন পলাতক ছিলো। সে টেলিগ্রাম সফ্টওয়ার ব্যবহারের মধ্যে মোবাইল ফোনে কথা বলতো, ফলে মোবাইল ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে তার অবস্থান চিহ্নিত করা যেতো না। পরবর্তীতে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের টেলিগ্রাম সফটওয়ার হ্যাক করে অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালানো হয়। আসামীদ্বয় গ্রেফতার এড়াতে রাজধানী ঢাকায় ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিয়ে লুকিয়ে ছিলো। 

ইতোমধ্যে এই মামলার এজহারভূক্ত ১, ৩ ও ৪ নং আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামীরা আদালতে হত্যার ঘটনা স্বীকার করে বিবরনী দিয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা চলছে। 

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!