কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে দৃষ্টিনন্দন করে নির্মিত হবে স্বপ্নের আন্ডারপাস-ইউলুপ।

মেহরাব অপি


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় দৃষ্টিনন্দন করে নির্মিত হবে স্বপ্নের আন্ডারপাস-ইউলুপ। নিরাপদ ও যানজটমুক্ত করতে এ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোসহ টেকসই, নিরাপদ ও ব্যয় সাশ্রয় যোগাযোগ ব্যবস্থার লক্ষ্যে নতুন করে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার (২৮ জুলাই) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ইউলুপ-আন্ডারপাস নির্মাণসহ ১০ প্রকল্পের অনুমোদন হয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫৭৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এরমধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ২ হাজার ১৫০ কোটি ৪২ লাখ টাকা এবং ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে ৪২৫ কোটি টাকা। এদিকে এ মহাসড়কে আন্ডারপাস-ইউলুপ নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদনের খবরে পরিবহন অঙ্গণ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নেতৃবৃন্দসহ কুমিল্লাবাসীর মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এজন্য তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

জানা যায়, বুধবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। অন্যদিকে শেরেবাংলা নগরের মন্ত্রিসভা কমিটি পরিষদ (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‌‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৩টি আন্ডারপাস ও একটি ইউলুপ নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এই আন্ডারপাস ও ইউলুপ নির্মাণ হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট কমে যানবাহনের গতি বাড়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনা কমে যাবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘এই প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক (এন-১) ও কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পদুয়ার বাজার ইন্টারসেকশনে ইউলুপ ও একটি আন্ডারপাস, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা গেট এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলতলী গেট সংলগ্ন স্থানে ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কে (এন-১) দুটি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে।’ প্রকল্পটির বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৫৬৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। চলতি বছরের জুন থেকে ২০২৪ সালে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

অনুমোদিত প্রকল্পসমূহ হলো:

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প যথাক্রমে ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কে ৩টি আন্ডারপাস ও পদুয়ার বাজার ইন্টারসেকশনে ইউলুপ নির্মাণ প্রকল্প’ এবং ‘জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (ময়মনসিংহ জোন) (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় বাংলাদেশ চ্যান্সারি ভবন নির্মাণ প্রকল্প’। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ‘ইনস্টিটিউট অব টিস্যু ব্যাংকিং অ্যান্ড বায়োমেটেরিয়াল রিসার্চ-এর সেবা ও গবেষণা সুবিধাদির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্প। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘জেলাভিত্তিক মহিলা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ (৬৪ জেলা) (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্প। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ শিশু কার্ডিওলজি ও শিশু কার্ডিয়াক সার্জারি ইউনিট স্থাপন’ প্রকল্প। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আয়রণ ব্রিজ পুননির্মাণ/পুনর্বাসন (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘পদ্মা বহুমুখী সেতুর ভাটিতে মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলাধীন বিভিন্ন স্থানে পদ্মা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ’ প্রকল্প। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ‘প্রত্যাগত অভিবাসী কর্মীদের পুনঃএকত্রীকরণের লক্ষ্যে অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক’ প্রকল্প এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের ‘বিসিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পনগরী, ঠাকুরগাঁও’ প্রকল্প।

উল্লেখ্য, ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক (এন-১) এবং কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-১৪০) দু’টি পদুয়ার বাজারে এসে মিলিত হয়ে চার রাস্তার মোড় তৈরি করেছে। এ মোড়ে ঢাকা-চাঁদপুর, চট্টগ্রাম-কুমিল্লা, কুমিল্লা-চাঁদপুর এবং চাঁদপুর-চট্টগ্রামগামী বিপুল সংখ্যক যানবাহনকে কম-বেশি ৫০০ মিটারের মধ্যে ইউটার্ন করতে হয়। ফলে এ স্থলে অধিকাংশ সময়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করে এবং ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তাছাড়া কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা গেইট এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলতলী গেইট স্থলেও তীব্র যানজট দূর করাসহ সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এসব কারণ বিবেচনা করেই প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়।

You might also like
error: Content is protected !!