আমদানি-রপ্তানিতে ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি পাবে–রিভা গাঙ্গুলী দাস।

মো. লুৎফুর রহমানঃ

কুমিল্লার গোমতী নদী দিয়ে দাউদকান্দি থেকে ভারতের সোনামুড়া বন্দরে পরীক্ষামূলকভাবে পৌঁছেছে সিমেন্টবাহী একটি কার্গো ট্রলার। শনিবার বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রিমিয়ার সিমেন্ট কোম্পানি লি. এর একটি ট্রলার তাদের উৎপাদিত ১০ টন সিমেন্ট নিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সোনামড়া বন্দরে পৌঁছে। 

এর আগে কুমিল্লার বিবির বাজার স্থল বন্দর দিয়ে ভারতের সোনামুড়া যাওয়ার পথে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাস সাংবাদিকদের বলেন, গত ২০ মে মাসে ঢাকায় দুই দেশের মধ্যে নতুন দুইটি নৌ পথের  চুক্তি সাক্ষরিত হয়ে ছিল। এর একটি রাজশাহী থেকে ভারতের দুলিহান এবং অপরটি কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ত্রিপুরার সোনামুড়া। এই চুক্তি অনুসারে শনিবার প্রথম সিমেন্ট এক্সপোর্টের মাধ্যমে ট্রায়াল রান শুরু করা হলো। বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক দিন। তিনি আরও বলেন, সাধারণত দুই দেশের মধ্যেই ট্রাকযোগে পণ্য আমদানি রপ্তানি করা হয়। এই নৌ পথ চালুর কারণে বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো বৃদ্ধি পাবে এবং আমদানি ও রপ্তানি ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। নৌ পথের নাব্যতা সংকটসহ আরও যে সকল সমস্যা চিহ্নিত হবে সেগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে। 

এর পরে কুমিল্লার বিবির বাজার গোমতীর অংশে বিআইডব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান গোলাম সাদেক বেলুন উড়িয়ে পরীক্ষামূলক নৌ চলাচল উদ্বোধন করেন এবং ট্রলারটিকে বিদায় জানান। এসময় কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর, কাস্টমস অফিসার সুভাস চন্দ্র মজুমদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজিমুল আহসান, তানভীর সালেহীন ইমন, কাস্টমস কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গোমতী নদীতে কার্গো নৌ চলাচলে নানা সমস্যা ও সংকটের বিষয়গুলো চিহ্নিত করে বিআইডব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান গোলাম সাদেক বলেন, সমস্যা, সংকট এবং প্রতিকূলতা চিহ্নিত করতে পরীক্ষামূলকভাবে গোমতী নদী দিয়ে নৌপথে পণ্য চালান শুরু করা হয়। পরীক্ষামূলকভাবে ১০ টন সিমেন্ট নৌপথে রপ্তানি করতে গিয়ে গোমতী নদীর অনেক সমস্যা ও সংকট চিহ্নিত করতে পেরেছি। সমস্যাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে নদীতে নাব্যতা সংকট এবং ব্রিজের উচ্চতার বিষয় রয়েছে। নদীর নাব্যতা সংকট রোধে ড্রেজিংয়ের বিষয়ে একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। ড্রেজিংয়ের অনুমোদন পেলেই খুব শিঘ্রই নাব্যতা বৃদ্ধি করে যেন আরও বেশি করে মালামাল বহন করা যায় তার একটি ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, কুমিল্লার এই গোমতী নদী দিয়ে নৌ পথের বিষয়ে ভারত সরকার খুব বেশি আগ্রহী। কারণ ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যের জন্য এই বিবির বাজার স্থল বন্দরের সাথে যদি নৌপথটি চালু করা যায় তাহলে সীমান্ত বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে। 

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!